জন্মের ব্যবধান মাত্র কয়েক মিনিটের। দীর্ঘ ৪৯ বছর ধরে মিশেল ও লাভিনিয়া ওসবোর্ন জানতেন তারা যমজ বোন। কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষার এক অবিশ্বাস্য ফলাফল তাদের আজীবনের ধারণা বদলে দিয়েছে। জানা গেছে, একই মায়ের গর্ভে একই সঙ্গে বেড়ে উঠলেও তাদের বাবা দুজন আলাদা ব্যক্তি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অত্যন্ত বিরল এই ঘটনাকে বলা হয় ‘হেটেরোপ্যাটার্নাল সুপারফেকানডেশন’।
১৯৭৬ সালে ইংল্যান্ডে এই দুই বোনের জন্ম। বড় হওয়ার সময় তারা জানতেন ‘জেমস’ নামের এক ব্যক্তি তাদের বাবা। কিন্তু বড় হওয়ার পর মিশেল লক্ষ্য করেন, জেমসের সঙ্গে তার চেহারার কোনো মিল নেই। কৌতূহল মেটাতে তিনি একটি ডিএনএ টেস্ট করেন। ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, যেদিন তাদের মা মারা যান, সেদিনই পরীক্ষার ফলাফল আসে। তাতে দেখা যায়, মিশেল ও লাভিনিয়া আসলে সহোদর বোন নন, বরং সৎ বোন; কারণ তাদের বাবা আলাদা।
শুরুতে লাভিনিয়া এই সত্য মেনে নিতে না পেরে নিজেও একটি ডিএনএ টেস্ট করান। ফলাফলে দেখা যায়, মিশেলের বাবা জেমস নন, বরং ‘অ্যালেক্স’ নামের এক ব্যক্তি। অন্যদিকে লাভিনিয়া যাকে বাবা জানতেন, সেই জেমসও তার প্রকৃত বাবা নন; তার জন্মদাতা বাবা হলেন ‘আর্থার’। বর্তমানে দুই বোনই তাদের নিজ নিজ বাবার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। তাদের মধ্যকার সম্পর্ক আগের মতোই অটুট রয়েছে।
সাধারণত যমজ সন্তান হয় যখন একটি ডিম্বাণু বিভক্ত হয় অথবা দুটি আলাদা ডিম্বাণু একই সময়ে একই ব্যক্তির শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়। কিন্তু ‘হেটেরোপ্যাটার্নাল সুপারফেকানডেশন’ ঘটে তখন, যখন একজন নারীর শরীরে একই মাসিক চক্রে দুটি ডিম্বানু উৎপন্ন হয় এবং স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুজন আলাদা পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের ফলে ডিম্বাণু দুটি ভিন্ন ভিন্ন শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়।
বিশ্বজুড়ে বিরল এই ঘটনা
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ওসবোর্ন বোনদের এই ঘটনাই এখন পর্যন্ত একমাত্র নথিবদ্ধ নজির। বিশ্বজুড়ে এই বিরল ঘটনার মাত্র ২০টির মতো ঘটনা এখন পর্যন্ত দালিলিক প্রমাণসহ সামনে এসেছে।
মিশেল ও লাভিনিয়া মনে করেন, তাদের মা হয়তো অবচেতন মনে এই সত্য জানতেন, কিন্তু কখনো প্রকাশ করেননি। তবে এই সত্য জানার পর তাদের মধ্যকার বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে। লাভিনিয়ার ভাষায়, আমরা এক একটি অলৌকিক ঘটনা। আমাদের মধ্যকার ঘনিষ্ঠতা কখনোই ভাঙার নয়। সূত্র : পিপল ডট কম
