ইসলামের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ ইবাদত কোরবানি। এতে আছে আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক মহিমা। কোরবানি শুরু হয়েছিল হজরত আদম (আ.)–এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল থেকে। পরবর্তীতে কুরবানির জন্য হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তার শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.)-এর আত্মবিসর্জন কেয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি মুমিনের জন্য অনন্য শিক্ষা ও প্রভু প্রেমের পাথেয়।
কোরবানির একটি নাম বা একটি ভাগে একাধিক ব্যক্তিও শরিক হতে পারেন না, তারা এক সংসারে থাকা দুই ভাই হলেও। ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বানানো
কোরবানির একটি নাম বা একটি ভাগে একাধিক ব্যক্তিও শরিক হতে পারেন না, তারা এক সংসারে থাকা দুই ভাই হলেও।
অনেকে জানতে চান, দুই ভাই মিলে এক ভাগে কোরবানি দেয়া জায়েজ?
এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, ছাগল, ভেড়া বা দুম্বায় একের অধিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করা যায় না। উট, গরু ও মহিষে সাতের বেশি ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করা যায় না। কোরবানির একটি নাম বা একটি ভাগে একাধিক ব্যক্তিও শরিক হতে পারেন না, তারা এক সংসারে থাকা দুই ভাই হলেও। এক নামে একাধিক ব্যক্তি শরিক হলে ওই কোরবানি শুদ্ধ হয় না।
যে কোনো এক ভাইয়ের নামে কোরবানি করলে অন্য ভাই তাকে তার অংশের টাকা বা পশুর মালিক বানিয়ে দেবেন, তারপর তার নামে কোরবানি হবে। কোরবানির মাংস আপনাদের যৌথ সংসারে সবাই মিলে খেতে পারবেন, তাতে সমস্যা হবে না।
যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে থাকেন এবং আপনাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে, তাহলে দুইজনের পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা কোরবানি করা অর্থাৎ একটি কোরবানির উপযুক্ত ছাগল, ভেড়া, দুম্বা অথবা গরু, মহিষ বা উটের কমপক্ষে এক সপ্তমাংশ কোরবানি করা ওয়াজিব।
দুইজনের পক্ষ থেকে এক নামের কোরবানি করলে আপনাদের কোরবানি যেমন শুদ্ধ হবে না, ওই গরুর অন্য অংশীদারদের কোরবানিও শুদ্ধ হবে না। তাই এ ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে।
হজরত জাবের (রা.) বলেন, আমরা আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হজের ইহরাম বেঁধে রওয়ানা হলাম। তিনি উট ও গরু কোরবানির জন্য সাতজন করে শরিক হওয়ার নির্দেশ দিলেন। (মুসলিম: ১৩১৮, ৩০৪৯)
