জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে ভাঙন, বেরিয়ে গেল একটি দল

ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল-এম.এল. (অনিবন্ধিত) জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ২০ জুন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নৈশভোজে জোটভুক্ত একটি দলের এক নেতার অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। এর মধ্য দিয়ে জোটে ভাঙন নিশ্চিত হলো।

আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ডা. সৈয়দ নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জোট ছাড়ার এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ডা. সৈয়দ নুরুল ইসলাম জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সম্প্রতি জোট শরিক গণদল চট্টগ্রাম মহানগর বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের আহ্বায়ককে (মো. কামাল উদ্দিন) দলটির অন্যতম প্রতিনিধি করে প্রধানমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠানে নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় সমমনা জোটের একটি কর্মসূচিতে গভীর উদ্বেগ ও আপত্তি জানায় বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম.এল.)।

শুধু দুজনকে নিলেই জাতীয় সরকার হয়ে যায় না : সমমনা জোট

বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম.এল.) বলেছে, ‘একটি প্রগতিশীল রাজনৈতিক জোটের আদর্শ, নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—এমন কোনো পদক্ষেপ ও কার্যক্রম জোটের গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আমাদের কাছে নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ৪ আগস্ট রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি কর্মসূচিতে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম.এল.) জোটের কার্যক্রম, নীতিগত অবস্থান এবং সার্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম.এল.)।

দলটি জানিয়েছে, দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রগতিশীল রাজনীতির বিকাশে তারা অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও নীতিগত ও আদর্শিক অবস্থানে অবিচল থেকে জনগণের পক্ষে রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।

তবে মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (এম.এল.) জোট ত্যাগের ব্যাপারে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের মুখপাত্র এসএম শাহাদাতের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে এমন সময় এই ভাঙনের সৃষ্টি হলো, যখন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে কোথায় কীভাবে মূল্যায়ন করা যায়—সেটি বিবেচনা করছে সরকার।

Share post:

আরও খবর