ওষুধ নয়, প্রাকৃতিক ভাবেই বাড়ান পুরুষের শারীরিক সক্ষমতা

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শারীরিক শক্তি ও কর্মক্ষমতায় পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। ২০ বছর বয়সের মতো একই মাত্রার শক্তি ও গতি সারাজীবন বজায় রাখা সম্ভব নয়। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে বয়স বাড়লেও সুস্থ ও আনন্দময় জীবনযাপন করা সম্ভব।

পুরুষদের একটি সংবেদনশীল ও সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা হলো ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা উত্থানজনিত সমস্যা। অনেকেই এটিকে স্থায়ী অক্ষমতা ভেবে মানসিক চাপে ভোগেন। আবার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিভিন্ন ওষুধ বা কথিত শক্তিবর্ধক পণ্য ব্যবহার শুরু করেন, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরেকটাইল ডিসফাংশন শুধু যৌনস্বাস্থ্যের সমস্যা নয়, অনেক ক্ষেত্রে এটি ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা রক্তনালীর সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই সমস্যাটি দেখা দিলে লজ্জা বা গোপনীয়তার কারণে চিকিৎসা এড়িয়ে না গিয়ে কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ।

সক্ষমতা হ্রাসের পেছনে যেসব কারণ

চিকিৎসকদের মতে, রক্তনালীর সমস্যা, স্নায়বিক জটিলতা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রোস্টেটের অস্ত্রোপচারের পর এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ধমনীতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রাকৃতিকভাবে শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার উপায়

প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটা ও শরীরচর্চা

নিয়মিত হাঁটা ও মাঝারি ধরনের ব্যায়াম হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন প্রায় ৩০ মিনিট হাঁটা, সম্ভব হলে সপ্তাহের অধিকাংশ দিন, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে কার্যকর হতে পারে।

সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাজা ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম এবং মাছসহ স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎস রাখা উপকারী। অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্টফুড, অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কমানো উচিত।

রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ

উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে অতিরিক্ত শর্করা এবং কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে গেলে রক্তনালীর ক্ষতি হতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

ওজন ও কোমরের মাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা

অতিরিক্ত ওজন ও পেটের চর্বি ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ এবং হরমোনজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা তাই গুরুত্বপূর্ণ।

পেলভিক ফ্লোরের ব্যায়াম

কেগেল বা পেলভিক ফ্লোর ব্যায়াম পেলভিক অঞ্চলের পেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত ও সঠিক পদ্ধতিতে এ ব্যায়াম করার আগে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

হরমোনের ভারসাম্য ভালো রাখতে যা করবেন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা শারীরিক সক্ষমতার সমস্যা দেখা দিলে নিজের মতো করে ওষুধ খাওয়া বা বাজারের অননুমোদিত শক্তিবর্ধক পণ্য ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ এ ধরনের সমস্যা কখনো কখনো হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস বা রক্তনালীর জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে।

সমস্যাটি বারবার দেখা দিলে একজন নিবন্ধিত চিকিৎসক বা ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পদক্ষেপ।

Share post:

আরও খবর