ঝালকাঠিতে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার সৎ বাবা কামাল খলিফার বিরুদ্ধে। এছাড়া ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বেল্লাল হোসেন নামে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় রোববার (৪ অক্টোবর) ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে ঝালকাঠি সদর থানায় মামলা করেছেন। যার নম্বর ৪ জিআর নম্বর ২৮৮/২৬।
গ্রেপ্তার কামাল খলিফা ওরফে লাল মিয়া (৬০) ও বেল্লাল হোসেন হাওলাদার (৫৫) ঝালকাঠি শহরের কৃষ্ণকাঠি এলাকার বাসিন্দা।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর তিনি মায়ের সঙ্গে নানাবাড়িতে বসবাস করতেন। পরে তার মা কামাল খলিফাকে বিয়ে করেন। এরপর কামাল খলিফা তাদের নানাবাড়ির পাশে জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। ওই বাড়িতে মা, কামাল খলিফা ও ভুক্তভোগী তরুণী একসঙ্গে বসবাস করতেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই তরুণী প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকেই কামাল খলিফা তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করতেন। মায়ের অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন সময় তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অনৈতিক আচরণ করতেন তিনি। বিষয়টি তার মাকে জানালে মা-মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে গত ১ এপ্রিল সকালে তরুণীর মা ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার পর বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে কামাল খলিফা তাকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা প্রকাশ করলে ক্ষতি করার ভয় দেখানো হয়। এরপর বিভিন্ন সময় একইভাবে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রায় তিন মাস আগে কামাল খলিফার আত্মীয় ও পরিচিত বেল্লাল হোসেন হাওলাদার ধর্ষণের ঘটনা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে গত ১ জুলাই সকালে বেল্লাল হোসেন ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই তরুণীকে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন।
এদিকে অভিযুক্ত দুজনের আচরণে সন্দেহ হওয়ায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর তরুণীর মা তাকে নজরদারিতে রাখেন। ঐদিন সকালে মা বাইরে অবস্থান নেওয়ার পর কামাল খলিফা তরুণীর কক্ষে ঢুকলে তার মা গিয়ে তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় কামাল খলিফা তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে তরুণী তার মায়ের কাছে ঘটনাগুলো খুলে বলেন। এরপর তাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
ঝালকাঠি সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় গতকাল থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বরগুনা জেলা থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

