ভারতের পুনে জেলায় মদ্যপান করে গত ৪৮ ঘণ্টায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষাক্ত মেথানল মেশানো দেশি মদ পান করেই এই মৃত্যুগুলো ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ফুগেওয়াড়ি ও দাপোডি এলাকায় ১৩ জন এবং পুনের হাদাপসার ও কালেপাদাল এলাকায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শুরুতে এসব মৃত্যুকে আলাদা অসুস্থতার ঘটনা বলে মনে করা হলেও, পরে দেখা যায় সকলের মধ্যেই তীব্র মাথা ঘোরা ও পেট ব্যথার মতো একই ধরনের উপসর্গ ছিল। খবর এনডিটিভির।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সমতুল্য অপরাধ, বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করা এবং নিষেধাজ্ঞা আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেছে।
এই ঘটনায় যোগেশ ওয়ানখেড়ে নামে এক আসামিকে আটক করা হয়েছে। তিনি আত্মসমর্পণের পর গ্রেপ্তার হন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি পুনে ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকায় মেথানল মিশ্রিত বিষাক্ত মদ সরবরাহ করতেন।
রাজ্য আবগারি দপ্তরের পুলিশ সুপার অতুল কানাডে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধভাবে মদের মধ্যে মেথানল মিশিয়ে দিয়েছিল, যার ফলে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের পুলিশ কমিশনার বিনয় চৌবে জানিয়েছেন, মোট সাতজন অভিযুক্তের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ হেফাজতে এবং দুজন রাজ্য আবগারি দপ্তরের হেফাজতে রয়েছে। পরে মামলাটি ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দাপোডি, ফুগেওয়াড়ি ও হাদাপসার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ দেশি মদের ব্যবসা চলছিল, অথচ পুলিশ ও আবগারি বিভাগ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন। তারা জানান, মদ পান করার পর মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই বমি ও তীব্র পেট ব্যথা শুরু হয় এবং দ্রুত অবস্থার অবনতি ঘটে।
এ ঘটনায় মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস কঠোর অবস্থান নিয়ে পুনে ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের পুলিশ কমিশনারদের দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি পুরো চক্রের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
