ভারতের গুজরাটের রাজকোটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে গড়ে ওঠা একটি সম্পর্কের পরিণতি হয়েছে হত্যাকাণ্ডে। অনলাইনে দীর্ঘ তিন বছর নারী পরিচয়ে যোগাযোগ রাখা এক ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় জানতে পেরে তাকে হত্যার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গত ২৫ জুন রাজকোটের মাস্কাট ফটক এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে নারীর পোশাক পরা একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে ঘটনাটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হলেও ময়নাতদন্তে মাথায় গুরুতর আঘাতের আলামত পাওয়ার পর এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পিযুষ কুমার খারওয়ার (২০) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পিযুষ কয়েক বছর আগে ফেসবুকে ‘নিশা কুমার’ এবং ইনস্টাগ্রামে ‘পূনম’ নামে দুটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হন। ওই অ্যাকাউন্টগুলো পরিচালনা করতেন চন্দন কুমার নামে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে নারী হিসেবে পরিচয় দিতেন। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তাঁরা একসঙ্গে বসবাসও শুরু করেন।
পুলিশের দাবি, চন্দন বিভিন্ন ধর্মীয় মানতের কথা বলে শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে যেতেন। পিযুষ তাকে নিজের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং হিন্দু রীতিতে সিঁথিতে সিঁদুরও পরিয়ে দেন।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, পরে একদিন চন্দনকে দাড়ি কামাতে দেখে পিযুষ বুঝতে পারেন, তার সঙ্গী আসলে একজন পুরুষ। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।
পুলিশ জানায়, পরে চন্দন উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থান হয়ে রাজকোটে পিযুষের কর্মস্থলে পৌঁছান। গত ২১ জুন একটি কারখানায় তাদের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে পিযুষ তাকে রেললাইনের পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে বড় একটি পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। এরপর মরদেহটি পাথরের নিচে লুকিয়ে রেখে তিনি কাজে ফিরে যান।
রাজকোট গ্রামীণ পুলিশের সুপার বিজয় সিং গুর্জর জানিয়েছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)–এর ১০৩(১) ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে এখনো বিচার শেষ হয়নি। ফলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।
