বিশ্বকাপে হেক্সা মিশনের প্রস্তুতি নিয়ে কয়েক দিনের মধ্যে মাঠে নামছে ব্রাজিল। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে এক প্রীতি ম্যাচ খেলতে নেমে মাঠের চরম বিশৃঙ্খলার কারণে বিতর্কিত হলো তাদের নারী দল। মাঠের মধ্যে ব্যস্ত সময় পার করতে হলো রেফারিকে। স্বাগতিক দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে ৮ লাল কার্ড দেখাতে হলো। ম্যাচটিও ১-০ গোলে হেরেছে ব্রাজিল।
আগামী বছর ব্রাজিলে হবে নারী বিশ্বকাপ। এই টুর্নামেন্টের আদর্শ প্রস্তুতি হিসেবে এই ম্যাচ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এরেনা কাস্তেলাও-এ তা চরম নৈরাজ্যে রূপ নিলো। স্প্যানিশ রেফারি পাওলা সেবোলাদা লোপেজ ব্রাজিলিয়ান কোচিং স্টাফ দলের চার সদস্য ও চার খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে বের করে দেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে পড়েছিল যে, শেষ বাঁশি বাজার পর ৫৫ হাজার দর্শকের সামনে ম্যাচ অফিসিয়ালদের নিরাপত্তা দিতে মাঠে প্রবেশ করে দাঙ্গা পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ব্রাজিলের প্রধান কোচ আর্থার এলিয়াস কোচ জার্সির রঙ নিয়ে ঝামেলা করে হলুদ কার্ড দেখলে। ৭৭তম মিনিটে বিক্ষুব্ধ হয়ে বল লাথি মেরে দূরে পাঠিয়ে দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। এছাড়া আরও তিন কোচিং স্টাফকে লাল কার্ড দেন সেবোলাদা।
তারপর হতাশা ছড়িয়ে পড়ে খেলোয়াড়দের মাঝেও। বিয়া জানেরাত্তো প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ধাক্কা দিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন। স্টপেজ টাইমে সোফিয়া উইলসনকে কনুই দিয়ে গুঁতো মেরে লাল কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার তারসিয়ানে। বিশৃঙ্খলা তবুও থামেনি। খেলার শেষ বাঁশি বাজার পর টানেলে যাওয়ার সময় দুই দলের খেলোয়াড়দের হাতাহাতি শুরু হলে আরও দুজন ব্রাজিলিয়ান লাল কার্ড দেখেন।
ম্যাচের পরপর প্রতিক্রিয়া জানান ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়রা। তারা ম্যাচ অফিসিয়াল ও আমেরিকান খেলোয়াড়দের ওপর ক্ষোভ উগরে দেন। মিডফিল্ডার অ্যাঞ্জেলিনা ম্যাচ শেষে কোনো রাখঢাক না রেখেই মাঠে যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ করেন। ব্রাজিলের মনে হয়েছে, এই উত্তপ্ত ম্যাচ চলাকালে ভিএআরে কিছু সিদ্ধান্তে শাস্তি এড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে আজ এখানে যা ঘটেছে তা চরম লজ্জাজনক। মাঠে কী ঘটছে সেটা সম্পর্কে ধারণাই ছিল না চতুর্থ রেফারির, ভিএআর কাজ করছে না। মনে হচ্ছিল এটা কিছুই খতিয়ে দেখছে না। আমাদের একজন খেলোয়াড়ের পা মাড়িয়ে দেওয়া হলেও কেউ সেটার পর্যালোচনা করেনি। তারপর ধাক্কাধাক্কিও হলো, রেফারি হঠাৎ করে আমাদের খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে বের করতে লাগলো। এটা সত্যিই কঠিন ছিল।’
আমেরিকার খেলোয়াড়দের কাছে সম্মানহানির শিকারও হয়েছেন বললেন অ্যাঞ্জেলিনা, ‘তাদের একজন খেলোয়াড় সাক্ষাৎকারে বলল এটা ছিল সুন্দর পরিবেশ। কিন্তু মাঠে সে আমাদের আবর্জনা বলেছিল। আমরা নাকি ফুটবল কীভাবে খেলতে হয় জানি না। এটা শ্রদ্ধার চরম অবমাননা, রেফারি ও তাদের খেলোয়াড় উভয়ের দিক থেকে।’
