জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আবু সাঈদ সুজনের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “আমার মৃত্যু হলে দলীয় কোনো ব্যক্তি আমার জানাজায় আসবেন না।”
গত ৮ জুলাই দেওয়া ওই স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এর কারণ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই মন্তব্যের মাধ্যমে তার খোঁজখবর নেন এবং স্ট্যাটাসের পেছনের কারণ জানতে চান।
স্ট্যাটাসের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু সাঈদ সুজন বলেন, বিগত সরকারের সময় তিনি ১১টি মামলার আসামি হন এবং তিনবার কারাবরণ করেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময় হয়রানির শিকার হওয়ার পাশাপাশি তার বাবা ও ভাইও মামলা ও হামলার মুখোমুখি হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, সম্প্রতি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে জামালপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ওই সময়ে দলের কোনো নেতা তার খোঁজ নেননি বা হাসপাতালে দেখতে যাননি বলে তার অভিযোগ। দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকারের পর এমন পরিস্থিতিতে তিনি মানসিকভাবে কষ্ট পেয়েছেন। সেই অভিমান থেকেই ফেসবুকে ওই স্ট্যাটাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
তবে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত অভিমান থাকলেও দলের প্রতি তার অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এলাকার মানুষের পাশে থাকতে চান।
এ বিষয়ে জানতে মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রতনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা বিএনপি নেতার স্ট্যাটাসটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এর প্রেক্ষিতে দলীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
