ফ্রান্সের জয়ে বড় সুখবর পেল ব্রাজিল

চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে আগেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ফ্রান্সের ২-০ গোলের জয়টি এক দিক থেকে স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য। ফরাসিদের এই জয়ের ফলে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলকে টপকে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে মরক্কোর।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মরক্কো যদি ফ্রান্সকে হারাতে পারত, তবে তাদের ঝুলিতে অতিরিক্ত ৫০ পয়েন্ট যোগ হতো। সেক্ষেত্রে তারা সরাসরি ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে যেত। কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বিদায় নেওয়ায় মরক্কোর সেই সুযোগ নষ্ট হয় এবং ব্রাজিলের অবস্থান আপাতত নিরাপদ থাকে।

বর্তমানে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৮০৪.৯২ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে রয়েছে সেলেসাওরা। তাদের ঠিক নিচেই ১৮০৩.৯৯ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে মরক্কো। পয়েন্টের ব্যবধান খুবই কম হওয়ায় মরক্কোর জয়ে ব্রাজিলের স্থান হারানোর বড় ঝুঁকি ছিল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। তৃতীয় মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের শট এবং কিছুক্ষণ পর দায়ো উপামেকানোর হেড দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো। অন্যদিকে মরক্কো শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে ম্যাচের গতি কমানোর চেষ্টা করে।

প্রথমার্ধে ফরাসি মিডফিল্ডার দোয়ে বল কেড়ে নিয়ে মাইকেল ওলিসেকে পাস দেন। ওলিসে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপ্পের দিকে। তবে পেনাল্টি বক্সের ভেতর মরক্কোর মাজরাউই তাঁকে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআর (VAR) প্রযুক্তিও এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। তবে পেনাল্টি নেওয়ার আগে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে মনোযোগ নষ্ট হওয়ায় এমবাপ্পের নেওয়া শটটি ঠেকিয়ে দেন বুনো।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ফ্রান্স। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে দোয়ের পাস থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের বাঁকানো শটে প্রথম গোলটি করেন এমবাপ্পে। এই গোলের আগে হ্যান্ডবলের অভিযোগ তুলেছিল মরক্কো, তবে ভিএআর পরীক্ষায় গোলের বৈধতা নিশ্চিত হয়। এর ঠিক ছয় মিনিট পর, ৬৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। মাঝমাঠ থেকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে নিচু শটে বল জালে জড়ান তিনি।

দুই গোল হজম করার পর আশরাফ হাকিমিরা আক্রমণের তীব্রতা বাড়ালেও অভিজ্ঞ ফরাসি রক্ষণভাগ তা সামাল দেয়। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে গোড়ালিতে আঘাত পেয়ে এমবাপ্পে মাঠ ছাড়লে তাঁর বদলে নামেন জ্যঁ-ফিলিপ মাতেতা। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স। এই জয়ে দিদিয়ের দেশমের দল যেমন সেমিফাইনালে পা রাখল, তেমনি ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখতেও পরোক্ষ ভূমিকা রাখল।