ছাত্রদল নেত্রী প্রীতিকে নিয়ে ছাত্রলীগ নেত্রীর পোস্ট ভাইরাল

রলদলের নেত্রী প্রীতি চৌধুরীকে নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস প্রিয়ার দেওয়া ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রীতির রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রিয়ার বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা জবাব দিয়েছেন প্রীতি। পরে তার সমর্থনে অবস্থান নিয়েছেন রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশিকুজ্জামান প্রীতমসহ সংগঠনটির নেতাকর্মী ও কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট)। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজশাহী মহানগর শাখার পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রিয়া ফেসবুকে প্রীতি চৌধুরীর রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সঙ্গে প্রীতির অতীত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে তাকে ‘সুযোগসন্ধানী’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুকে পাল্টা পোস্ট দেন প্রীতি চৌধুরী। সেখানে তিনি প্রিয়ার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে দাবি করেন, ব্যক্তিগত বিষয়কে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রীতিও প্রিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা ও মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রিয়ার সঙ্গে তার কথোপকথনসংক্রান্ত আরও কিছু স্ক্রিনশট ও তথ্য প্রকাশের ইঙ্গিতও দেন তিনি।

এদিকে, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে রাজশাহী কলেজে প্রীতি চৌধুরী সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন বলে দাবি করছেন তার সমর্থকেরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ উল্লেখ করে বিভিন্ন পোস্টও দেওয়া হচ্ছে।

পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে প্রীতি চৌধুরীর পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশিকুজ্জামান প্রীতমসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এক ফেসবুক পোস্টে প্রীতম দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহী কলেজে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে প্রীতি চৌধুরী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

ভয়ভীতি বা ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে কোনো প্রতিবাদী কণ্ঠকে থামানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রীতি চৌধুরীসহ সব ছাত্রীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলে জানান এই ছাত্রদল নেতা।

এরপর রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রীতির সমর্থনে সরব হন। তারা সাইবার বুলিং ও ব্যক্তিগত আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানান।

বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা নিয়ে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Share post:

আরও খবর