শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী শিশির মনিরকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহের উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, গতকাল শহীদ আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে রাজপথে সবাই নেমেছিল। ছাত্রদল থেকে ছাত্র অধিকার ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনও নেমেছিল। এমনকি শিবিরও কর্মসূচি পালন করেছে, এনসিপিও কর্মসূচি পালন করেছে। আমার প্রশ্ন হলো—আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী শিশির মনির হয়েছিলেন। তিনি আমাদের একজন বিখ্যাত আইনজীবী এবং জামায়াতের মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী ছিলেন। তিনি জামায়াতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে অংশ নেন এবং আন্তর্জাতিক কমিউনিটির সঙ্গে মিটিংয়ে তাকে দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির যখন আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী হন, তখন শিবির কোন লজ্জায় রাজপথে কর্মসূচি করে, সেই প্রশ্ন আমি শিবিরের কাছে রেখে যেতে চাই। দেখেন, জুলাইয়ের সময় এই শিশির মনিররা রাজপথে নামেননি। এমনকি ফেসবুকেও জুলাইয়ের পক্ষে পোস্ট আছে কি না, সেটা নিয়েও আমার সন্দেহ আছে। তার প্রোফাইলটাও লাল করা হয়নি। জামায়াতের আমিরও তার প্রোফাইল লাল করেননি। আজকে তারা দাবি করছে, তারা জুলাইয়ের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নেপথ্য থেকে আমরা ভূমিকা পালন করেছি। জামায়াতের আমির এক দিনের জন্য রাজপথে নেমেছেন—এমন ছবি বা ভিডিও তারা দেখাতে পারবে না। কিন্তু বিএনপির সর্বোচ্চ জায়গা থেকে সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করা হয়েছে। এই সাক্ষী সমন্বয়করাই দেবেন, কারণ সমন্বয়কদের সঙ্গে আমরা সরাসরি কাজ করেছি।
রাশেদ খাঁন বলেন, আমার একটা প্রশ্ন—শিশির মনির যখন আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী হলেন, জামায়াত এ ব্যাপারে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল? নাকি জামায়াতের কাজই এমন—একদিকে খুনিদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া, অন্যদিকে যিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, সেই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করা? এ রকম দ্বিচারী রাজনীতি জামায়াত-শিবিরে রয়েছে।
তিনি বলেন, আবরার ফাহাদের বাবা গতকাল একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। খুনিদের আইনজীবী শিশির মনির—এটা আসলে অনাকাঙ্ক্ষিত। কেন আসলে খুনিদের আইনজীবী শিশির মনির হলেন, সেটি নিয়ে এখন অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। শিবির তো আওয়ামী জামানায় তারা ছাত্রলীগ হয়ে বেঁচেছিল। তাহলে কি আবরার ফাহাদের যে খুনিরা, তাদের কেউ কেউ শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল? এই কারণেই কি প্রকৃতপক্ষে শিবির নামধারী ছাত্রলীগের তাদের রক্ষা করার জন্যই আইনজীবী হিসেবে শিশির মনিরকে জামায়াত নিয়োগ দিয়েছিল—এই প্রশ্ন অনেকেই করছে।
রাশেদ খাঁন বলেন, আমি জামায়াতকে বলবো, যদি আবরার ফাহাদকে ধারণ করেন, তাহলে শিশির মনিরকে আপনারা ধারণ করতে পারেন না। শিশির মনিরকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের দাবি করছি। যেহেতু তিনি আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী হয়েছিলেন, আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী শিশির মনির জামায়াতে ইসলামী করতে পারেন না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি রাজনীতি করতে পারেন না। তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা জামায়াত-শিবিরের দায়িত্ব ছিল। সেখানে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা না করে বরং তাকে পুরস্কৃত করে নমিনেশন দেওয়ায় আমি ধিক্কার জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমি আবরার ফাহাদের পরিবারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, জামায়াত এবং শিবির যদি আইনজীবী শিশির মনিরকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার না করে, তাহলে পরবর্তীতে আর কোনো আবরার ফাহাদের হত্যার বিচারের দাবিতে জামায়াত-শিবিরের আয়োজিত কর্মসূচিতে আপনারা নৈতিকভাবে সেখানে অংশ নিতে পারেন না। একদিকে খুনিদের সাপোর্ট দিচ্ছেন শিশির মনির। অন্যদিকে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম আবরার ফাহাদের হত্যার বিচারের দাবিতে কর্মসূচির আয়োজন করছেন। এ রকম দ্বিচারী রাজনীতি জামায়াত-শিবির বহু করেছে। অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে শিশির মনিররা রাজনীতির কোনো সুযোগ পেতে পারেন না।

