সরকারি ক্লিনিকে ট্যাবলেট বা কনডম চাইলে যা দেয় জানলে অবাক হবেন

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গোপালনগরসহ বিভিন্ন গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে রোগীরা খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

গোপালনগর গ্রামের এক গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, প্রায় এক বছর ধরে ক্লিনিকে ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু ওরস্যালাইন ও কিছু সাধারণ ট্যাবলেট দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ মেলে না। বিশেষ করে গর্ভনিরোধক সামগ্রী যেমন “সুখী ট্যাবলেট”, কনডম ও ইনজেকশনও অনুপস্থিত থাকায় নারীরা সমস্যায় পড়ছেন বলে তিনি জানান।

একই এলাকার আরেক গৃহবধূ জানান, গ্রামের নারীরা অল্পশিক্ষিত হওয়ায় বেশি বেশি সন্তান নিয়ে থাকে। অনেক নারী গর্ভনিরোধের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকে যায় সুখী ট্যাবলেট, কনডম কিংবা ইনজেকশন নেওয়ার জন্য। কিন্তু ক্লিনিকে গিয়ে এসব কিছুই তারা পায় না। পরে বাইরের ফার্মেসি থেকে টাকা দিয়ে কিনে আনতে হয়।

কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার সাদিয়া আক্তার জানান, ২০২৫ সালের ১৯ আগস্টের পর থেকে ক্লিনিকে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আগে ২২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ থাকলেও বর্তমানে শুধু সীমিত কিছু ওষুধ যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট, নিউমাইসিন ক্রিম ও ওরস্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ওষুধ না থাকায় প্রতিদিনই রোগীরা সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহজাহান কবীর জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাস্থ কেন্দ্র থেকে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে এবং সরবরাহ পেলেই ক্লিনিকগুলোতে বিতরণ করা হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে ময়মনসিংহ জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন জানান, জেলার প্রায় ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে কর্মীদের বেতন ও ওষুধ সরবরাহ দুটোই বন্ধ থাকায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা আরও সংকটে পড়বে।