হঠাৎ ড. ইউনূসকে নিয়ে নতুন গুঞ্জন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর হঠাৎ করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব দেওয়ার পর আলোচনায় এসেছে একাধিক নাম। এর মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।

আলোচনার সূত্রপাত গত ৫ আগস্ট। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে আড়ালে থাকা ইউনূস আলোচনায় আসেন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। সেদিন দর্শকসারি থেকে তাকে প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চে ডেকে নেওয়া, পাশে রেখে সময় কাটানোর পর সরকার, সচিবালয়, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং বিশ্লেষকদের ভাবনায় আসে তার নাম।

আওয়ামী লীগের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ। এরপরই সরকারের পক্ষ থেকে অক্টোবরের মধ্যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হয়। শুরু থেকেই বিভিন্ন নাম নিয়ে আলোচনা থাকলেও এক্ষেত্রে কোনো তাড়াহুড়ো দেখায়নি বিএনপি। পরে গত ১ আগস্ট স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয় তারেক রহমানকে।

এক সপ্তাহ ধরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা না থাকলেও বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ২০ আগস্ট নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় দেওয়া হয় ১৩ আগস্ট।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয় সংসদ সদস্যদের ভোটে। সংসদে বিএনপির দুই তৃতীয়াংশ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কারও ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় ক্ষমতাসীন দল যাবে বেছে নেবে, তিনিই নির্বাচিত হবেন, এটা বলাই যায়।

এতদিন দলীয় নেতাদের বাইরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নাম এসেছে সংবাদ মাধ্যমে। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্য হিসেবে ইউনূসকে বেছে নিতে পারেন তারেক। অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে এরই মধ্যে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

তবে ইউনূসের নাম বিবেচনায় আছে কি না, এ বিষয়ে সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন টাইমসকে বলেন, ‘গত ১ আগস্টের বৈঠকে কোনো নাম নিয়ে আলোচনা হয়নি। সেটা প্রধানমন্ত্রী দেখবেন। তিনি এখনও কিছু জানাননি।’

ইউনূসকে নিয়ে গুঞ্জনের বিষয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বাইরে অনেক আলোচনা হতে পারে। তিনি সেখানে (অনুষ্ঠানে) যেতেই পারেন। এটা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসা ঠিক না।’

‘প্রধানমন্ত্রী যোগ্য ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেবেন’, বলে আশা বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতার।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালে ২০২৫ সালের ১৩ জুন লন্ডনে গিয়ে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ইউনূস। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রচলিত আলোচনায় বলা হয়, ওই বৈঠকেই বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। প্রথম দিকে বিষয়টি প্রকাশ না করা হলেও পরবর্তীতে প্রধান উপদেষ্টা জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সেই বৈঠকের সোয়া ছয় মাস পর তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়। পাঁচ দিন পর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেন।

রাষ্ট্রপতি পদে আরও আলোচনায় আছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজউদ্দিন আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী ও বিএনপির সিদ্ধান্তে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হওয়া আইরিন খানের নামও এসেছে নানা সময়।

যদিও ইন্ডিয়ান ব্লকের কোনো রাজনৈতিক নেতা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হোক তা চায় না সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি। তবে মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেলে এই দুই দলের সম্মতি থাকবে বলে দলের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

Share post:

আরও খবর