কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক তুহিন হোসেন (১৯) এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের ‘লিডার’ হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়রা জানায়, তুহিন মোবাইল, মোটরসাইকেল ছিনতাইসহ কোটবাড়ী-শালবন এলাকায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা-পয়সা ছিনতাই চক্রে জড়িত ছিলেন।
তিনি নিজে একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তার এসব কর্মকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছিল। প্রভাবশালী কয়েকজনের ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় ভয়ে তাকে কেউ কিছু বলত না।
এদিকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতেই তুহিনের বাড়ি থেকে অপ্রতিমের হারিয়ে যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আটক তুহিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার মো. নুরুল আলমের ছেলে। তিনি কুমিল্লা গভমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল থেকে ২০২৫ সালে এসএসসি ব্যাচের পরীক্ষার্থী ছিলেন। তবে সে বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেননি তিনি।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে শনিবার বিকেলে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস এবং ফাহিম আহমেদ নামের আরো দুজনকে আটক করা হয়। তাদের এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে শনিবার রাতে আসাদুল্লাহ সোহাগ নামের এক ভুক্তভোগী নিজের ফেসবুকে অভিযোগের একটি কপি পোস্ট করে তুহিনের চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তুলে ধরেন। অভিযোগের ওই কপিতে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনায় তুহিনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগট দিয়েছিলেন ভুক্তভোগী আসাদুল্লাহ সোহাগের পক্ষে তার মা মরিয়ম আক্তার।
ভুক্তভোগী আসাদুল্লাহ সোহাগ ওই পোস্টে লিখেন, ‘চোর তুহিন থেকে আজকে সে খুনি তুহিন। সে আমাকেও একইভাবে ডেকে এনে কৌশলে আমার বাইকটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ওর বিরুদ্ধে যখন আমি মামলা করতে গিয়েছিলাম, তখন সদর থানা পুলিশ আমার মামলা না নিয়ে শুধু একটি জিডি নিয়েছিল। কিন্তু ওর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টা আমাকে বলেছিল, ওর মাথার ওপর নাকি কোনো এক রাজনৈতিক দলের বড় নেতার হাত আছে, তাই ওকে যেন কিছু না করা হয়। সেদিন আমি চুপ ছিলাম, কিন্তু আজ আমি বলব, দেশের পুলিশের শুধু পোশাক পরিবর্তন হয়েছে, চরিত্র নয়, টাকা ছাড়া এ দেশে কোনো কিছুর বিচার পাওয়া যায় না।’

