বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উপাচার্য থাকাকালীন দুর্নীতির অভিযোগে গত জুন মাসে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা করে। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামালের সঙ্গে এক আলোচনায় এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট আনিস আলমগীর।
অনুষ্ঠানে মাসুদ কামাল সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে বলেন, অনেকের মুখে শুনেছি, কলিমউল্লাহ সরকারবিরোধী কথা বলেন এজন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
তখন আনিস আলমগীর বলেন, কলিমউল্লাহর পর কে? অনেকেই বলছেন, এরপর কী আনিস আলমগীর, পান্না, মাসুদ কামাল। একজন আমাকে বলেছেন, ‘ভাই আপনাকে নিয়ে চিন্তিত, সাবধানে থাকেন।’
তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস কথা বলার স্বাধীনতা দিয়েছেন।
কিন্তু তিনি আবার মবও লাগিয়ে দিয়েছেন। একজন ইউটিউবার ড. ইউনূসকেও গালি দিচ্ছেন, আবার আমার ব্যাপারে বলছেন, তিনি বেঁচে আছেন কিভাবে! পলাতক ইউটিউবাররা ড. ইউনূসকে গালি দিচ্ছে, আমাকে গালি দিচ্ছে; যখন যাকে ইচ্ছা গালি দিচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গাজীপুরের একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে। অনেক লোক দেখেও কিছু করল না।
সমাজের পরিস্থিতি আর কোন জায়গায় গেলে বা এর থেকে পরিস্থিতি আর কত খারাপ হলে সরকার বলবে যে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ।’
আনিস আলমগীর বলেন, ‘কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার, সাংবাদিককে হত্যা সবকিছু মিলিয়ে কথা বলার স্বাধীনতার বাস্তব রূপ পাচ্ছে না। এজন্য মানুষ মনে করছে, কথা বলার কারণে কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা রয়েছে। সবকিছু আইনমতো হয়েছে।
কিন্তু এই আমলে যাদের বিরুদ্ধে ৪০০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে দুদক তো তাদের ধরে নাই।’
তিনি বলেন, ‘কলিমউল্লাহকে ধরবেন আর অন্যদের ছেড়ে দেবেন তাতে তো সন্দেহ দেখা দেয়। আবার জিকে শামীমকেও ছেড়ে দিয়েছে। জিকে শামীমের মতো দুর্নীতিবাজ বের হয়, আর ৪ কোটির অভিযোগে কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে তাতে সন্দেহ দেখা দেয়। এতে সরকারের ইমেজ নষ্ট করে। সত্যিকার অর্থে আমাদের মধ্যেও ভীতি কাজ করে।’