Friday, August 29, 2025

আফ্রিদিকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে

আরও পড়ুন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যাত্রাবাড়ীতে আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় সম্প্রতি গ্রেপ্তার হন বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথী ও তার ছেলে কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি। এর মধ্যে নাসির উদ্দিন সাথীকে রিমান্ড শেষে কারগারে পাঠানো হয়েছে এবং তৌহিদ আফ্রিদি বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন।

রিমান্ডে আফ্রিদিকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির ভাষ্য, বাবা-ছেলের অপকর্মের তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছে তারা। বিশেষ করে পতিত সরকারের বেশ কজন মন্ত্রী-এমপিকে ম্যানেজ করে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ‘মাই টিভি’ দখল করার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তদন্তে অবৈধ উপায়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা বাবা-ছেলের অনেক কুকীর্তির তথ্যও মিলছে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বেসরকারি টিভি চ্যানেল ‘মাই টিভি’র চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির অপকর্মের শেষ নেই। রিমান্ডে আফ্রিদিকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে বলে জানিয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির ভাষ্য, বাবা-ছেলের অপকর্মের তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছে তারা। বিশেষ করে পতিত সরকারের বেশ কজন মন্ত্রী-এমপিকে ম্যানেজ করে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ‘মাই টিভি’ দখল করার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তদন্তে অবৈধ উপায়ে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা বাবা-ছেলের অনেক কুকীর্তির তথ্যও মিলছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিদির বাবা নাসির উদ্দিন সাথী বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতেন। আফ্রিদিকে জিজ্ঞাসাবাদে পতিত সরকারের সময় তার বাবা ও তার অনেক অপকর্মের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে কালের কণ্ঠকে জানান সিআইডির এক কর্মকর্তা। ক্ষমতার ছত্রছায়ায় একসময় নিজেকে অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ভাবতে শুরু করেন ‘ব্যাডবয়’ তৌহিদ আফ্রিদি।

আরও পড়ুনঃ  রায় শুনে বিচারককে জুতা নিক্ষেপ আসামির

এতে আরও বলা হয়েছে, কখনো রাত-বিরাতে মন্ত্রীদের সঙ্গে চলাফেরা, কখনো আবার মন্ত্রী-এমপিদের ছেলেমেয়ের সঙ্গে আড্ডা। মন চাইলে বিপুল অর্থের বিনিময়ে শোবিজের উঠতি নায়িকাদের সঙ্গে ফুর্তি করতেন। বিদেশে গিয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ অপরাধীদের সঙ্গে দেখা করতেন। তবে গত বছর ৫ আগস্ট দেশের পটপরিবর্তনের পর এসব অপকর্মের ভয়ে গ্রেপ্তার আতঙ্কে দেশেই পালিয়ে ছিলেন তারা। আর আফ্রিদি ও তার বাবা বিদেশে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সিআইডির এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, সিআইডির কাছে তথ্য রয়েছে, নাসির উদ্দিন সাথী মাই টিভির প্রকৃত মালিক নন। বিলকিস জাহান নামের এক নারীর কাছ থেকে জাল-জালিয়াতি ও পেশিশক্তি দেখিয়ে মাই টিভি দখল করে নেন। পতিত সরকারের কজন মন্ত্রী ও নেতার সহযোগিতায় নাসির উদ্দিন সাথী প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। বাবার সহযোগিতায় ছেলে আফ্রিদিও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এরপর বাবা-ছেলে নানা অপকর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের জিম্মি করে হাতিয়ে নেন বিপুল অর্থ।

এতে আরও বলা হয়, বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাই টিভির আগের কর্ণধার বিলকিস জাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিআইডি। বিলকিস জাহান গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, চ্যানেলটি প্রতিষ্ঠার পরই তার কাছ থেকে অবৈধভাবে সেটি দখল করে নেন তারা। টিভি চ্যানেল দখলের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আফ্রিদি জানান, এটা তার বাবা জানেন। তার জানা নেই। জিজ্ঞাসাবাদে আফ্রিদি ও তার বাবার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব যাচাই-বাছাই করে সত্যতা মিললে বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিই, তবে এটি কবে থেকে কার্যকর হবে

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালে ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে যাত্রা শুরু তৌহিদ আফ্রিদির। অনেক নায়িকা ও মডেলের সঙ্গে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করতেন অফ্রিদি। অনেক ছবিতে তাদের রোমান্টিক ভঙ্গিতে দেখা যেত। ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের সঙ্গে তার ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়।

সিআইডি বলছে, তৌহিদ আফ্রিদি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলার আসামি। গত বছর ১ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলাটি করেন মো. জয়নাল আবেদীন নামের এক ব্যক্তি। মামলায় তৌহিদ আফ্রিদি ও তার বাবা নাসির উদ্দিন সাথীসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় এজাহারনামীয় ১১ নম্বর আসামি তৌহিদ আফ্রিদি।

সিআইডি বলছে, এরই মধ্যে আফ্রিদির কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল, হার্ডডিস্ক ও ম্যাকবুক (তিনটি ডিভাইস) ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। এতে তার অপরাধ জগতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান কালের কণ্ঠকে জানান, আফ্রিদির অপকর্মের শেষ নেই। তদন্তে তার অপকর্মের অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সিআইডি বলেছে, অপরাধ জগতে আফ্রিদির শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। ভুক্তভোগীরা ওই সিন্ডিকেটের নাম দিয়েছে ‘গিভ অ্যান্ড টেক সিন্ডিকেট’। কেউ ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মুখ খোলার চেষ্টা করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি কিংবা গুমের ভয় দেখানো হতো।

আরও পড়ুনঃ  সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পর্কে বেরিয়ে এলো নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য!

উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানাধীন পাকা রাস্তার ওপর আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মো. আসাদুল হক বাবু। এ ঘটনায় গত সেপ্টেম্বরে নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় নাসির উদ্দিনকে ২২ নম্বর ও তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে ১১ নম্বর আসামি করা হয়।

পরে, গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থেকে তৌহিদ আফ্রিদির বাবা নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এ ছাড়া ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ছেলে তৌহিদ আফ্রিদিকে। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক তৌহিদ আফ্রিদির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তৌহিদ এখনো রিমান্ডে রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুনঃ

আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ