বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়েছেন মো. অনিক নামে এক ব্যক্তি। পরে তাকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন স্থানীয়রা। এ সময় বাবাকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে তার ৯ বছরের ছোট্ট মেয়ে।
একপর্যায়ে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবাকে নিজের হাতে চা ও রুটি খাইয়ে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় শিশুটিকে। বাবার ব্যথার জায়গায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাকে সাহসও দেয় সে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। বাবার প্রতি ছোট্ট মেয়েটির মমতা ও ভালোবাসার দৃশ্যটি হৃদয় ছুঁয়ে যায় উপস্থিত মানুষসহ ভিডিওটি দেখা অনেকের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বামরাইল ইউনিয়নের বাসিন্দা স্বপন সরদারের বাড়িতে চুরি করতে যান মো. অনিক। এ সময় স্থানীয়রা তাকে চুরি করতে গিয়ে ধরে ফেলেন। পরে তাকে আটক করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন তাকে মারধর করেন।
বাবা ধরা পড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে তার ছোট্ট মেয়ে। মানুষের ভিড়ের মধ্যে বাবাকে মারধর করতে দেখে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করে শিশুটি। বাবাকে আর মারধর না করার জন্য উপস্থিত লোকজনকে থামাতেও চেষ্টা করতে দেখা যায় তাকে।
পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে বাবার পাশে বসে পড়ে শিশুটি। খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় থাকা বাবাকে নিজের হাতে চা ও রুটি খাওয়াতে থাকে। চায়ের কাপে রুটি ভিজিয়ে বাবার মুখে তুলে দিয়ে শিশুটিকে বলতে শোনা যায়, ‘দেইখো বাবা, তোমার কিচ্ছু হইবে না।’
এ সময় বাবার শরীরের ব্যথার জায়গায় হাত বুলিয়ে দিয়ে শিশুটি আরও বলে, ‘তুমি বেশি ব্যথা পাইছো বাবা?’
স্থানীয়দের ভাষ্য, মো. অনিক এর আগেও একাধিকবার চুরির ঘটনায় জড়িয়েছেন। স্থানীয়ভাবে এসব ঘটনায় তাকে একাধিকবার ক্ষমা করা হয়েছিল। এবার চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং তাকে কঠোরভাবে শাসনের কথা বলা হয়।
তবে ঘটনাস্থলে অনিককে মারধর করার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চুরির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও কোনো ব্যক্তিকে আটক করে মারধর করা আইনসম্মত প্রক্রিয়া নয়।
তবে পুরো ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী হয়ে ওঠে শিশুটির বাবাকে আগলে রাখার দৃশ্যটি। সবার চোখে তিনি চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়া একজন ব্যক্তি; কিন্তু শিশুটির কাছে তিনি শুধুই ‘বাবা’। বাবার কী অপরাধ, সেই হিসাব না কষেই কেবল বাবার কষ্টটাই বুঝেছে ছোট্ট মেয়েটি।
ভরা মানুষের মাঝে বাবার মুখে চা-রুটি তুলে দেওয়া, ব্যথার জায়গায় হাত বুলিয়ে দেওয়া আর বারবার আশ্বস্ত করা ‘দেইখো বাবা, তোমার কিচ্ছু হইবে না’ মুহূর্তটি অনেককেই আবেগাপ্লুত করে।

