ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচগুণ, ব্যয়সীমা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ও নির্বাচনি ব্যয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রায় দেড় দশক পর চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের জামানত পাঁচগুণ এবং নির্বাচনি ব্যয়সীমা প্রায় দ্বিগুণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইসির প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হবে।

একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়সীমা ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা ২ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

গত বুধবার ( ৯ সেপ্টেম্বর ) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ একটি গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় কয়েকটি সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের এক অষ্টমাংশের কম ভোট পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। নতুন প্রস্তাবে ১৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া বর্তমানে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ও নির্বাচনি ব্যয় আলাদাভাবে নির্ধারিত থাকলেও নতুন প্রস্তাবে তা একীভূত করে মোট ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

বর্তমান বিধিতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যক্তিগত ব্যয়সীমা ৫০ হাজার এবং নির্বাচনি ব্যয় ৫ লাখ টাকা। নতুন প্রস্তাবে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে সদস্য প্রার্থীর ব্যক্তিগত ব্যয় ১০ হাজার এবং নির্বাচনি ব্যয় ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে মোট ২ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ইসি।

ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় করণিকসহ মোট ২১টি সংশোধনের প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হুমকি, ভয়ভীতি দেখানো বা কাজে বাধা দেওয়ার শাস্তির বিধান, প্রতিবন্ধী ভোটারদের সহায়তা নিশ্চিত করা এবং তফসিল ঘোষণার পর আচরণবিধি ও নির্বাচনি অপরাধ তদারকিতে মনিটরিং কমিটি গঠন।

এ ছাড়া অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে নির্বাচনের ফল স্থগিত, পুনরায় ভোট গ্রহণ এবং বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কমিশনের মাধ্যমে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।

নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম ইসির এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তার মতে, সময়ের সঙ্গে টাকার মূল্যমান কমে যাওয়ায় জামানত ও ব্যয়সীমা বাড়ানো যৌক্তিক। তবে এতে অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম প্রার্থীরা সুবিধা পেলেও অনেক যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী অর্থের কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

তিনি নির্বাচনি ব্যয় তদারকিতে নির্বাচন কমিশনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনেও কিছু সংশোধনের প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করে চলতি মাসেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।

আপনার মতামত লিখুনঃ

Share post:

আরও খবর