সৌদি আরবের ৩ শহরে হুতিদের হামলা

সৌদি আরবের তায়েফ, খামিস মুশাইত ও আবহা শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠী। এসব হামলায় ১৩ বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এ ছাড়া সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের ওই তিন শহরে হামলা চালানো হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার তথ্য জানায়।

জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, সোমবার খামিস মুশাইত, আবহা ও তায়েফ শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে ১৩ জন আহত হয়েছেন। তাদের কারও আঘাত গুরুতর নয়। তবে আহতদের কয়েকজন মাঝারি মাত্রার আঘাত পেয়েছেন।

তিনি বলেন, হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আল-মালিকি হুতিদের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার অনুযায়ী ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে জোট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এর আগে সোমবার হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, আগের ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের পাঁচটি প্রদেশে সৌদি যুদ্ধবিমান ৫৪টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইয়াহিয়া সারি সতর্ক করে বলেন, এসব হামলার ‘জবাব দেয়া হবে’।

এর আগে সোমবার হুতিরা খামিস মুশাইতে অবস্থিত কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবিও করে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান আরও বিস্তৃত করার হুমকি দেয় গোষ্ঠীটি।

বছরের পর বছর তুলনামূলক শান্ত থাকার পর গত জুলাইয়ের শুরু থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত আবারও বেড়েছে।

২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির কয়েকটি প্রদেশ দখল করার পর থেকে দেশটিতে যুদ্ধ চলছে। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করলে সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

আপনার মতামত লিখুনঃ

Share post:

আরও খবর